অন-পেইজ এসইও ফ্যাক্টর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ১০টি বিষয়




অন-পেজ এসইও কী? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা জানার জন্য এবং অন পেজ এসইও করে সফলতা লাভের জন্য এই লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে । এই আলোচনার মধ্যে অন-পেজ এসইও করার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ১০বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। 


সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে আমরা প্রতিনিয়ত অর্গানিক সার্চ বা জৈব অনুসন্ধান করে কনটেন্ট খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। আমরা যেন সঠিক কনটেন্টটি সহজে খুঁজে পাই এজন্য সার্চ ইঞ্জিন কর্তৃপক্ষ অন-পেজ এসিও করার ক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয়কে গুরত্বারোপ করেছে। 


বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিনের রাজা গুগল এই অন-পেজ এসইও এর বিষয়গুলোকে খুবই মূল্যায়ন করে থাকে। জনগণের তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে অন-পেজ এসইও করা পেজগুলোকে গুগল টপ র‌্যাংকে নিয়ে আসে।এজন্য ওয়েবসাইটের পেজগুলোকে র‌্যাংকিংএ প্রথমে আসার জন্য সঠিক নিয়মে অন-পেজ এসইও করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।


বছরের পর বছর আমরা ওয়েবসাইট ও পেজের লিংক বিল্ডিং করার জন্য অফপেজ এসইও করে থাকি। কিন্তু অন-পেজ এসইও না করে শুধুমাত্র অফ-পেজ এসইও করে গেলে কোনো লাভ হবে না। কারণ গুগল অন-পেজ এসইওকে অফ-পেজ এসইওএর তুলনায় ৭০ গুণ বেশি গুরুত্ব দেয়।স্মার্ট এসইও এক্সপার্ট এটা খুব ভালো করেই জানেন। 


বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল কথা হলো, অফ-পেইজ এসইও খুব ভাল কিছু করতে পারে না যদি আমরা অন-পেজ এসইওসহ মৌলিক বিষয়গুলিতে মনোযোগ না দেন ।
অনলাইন দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে অন-পেজ এসইও ক্রমাগত আপডেট হচ্ছে । আপডেট হচ্ছে অনলাইন দুনিয়ার সবকিছু। তাই একজন প্রকৃত স্মার্ট এসইও এক্সপার্ট পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট করে নেয়। 
এই আলোচনায় আমরা অন-পেজ এসইও কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপডেট এসইও এক্সপার্টদের জন্য জানানোর চেষ্টা করবো। 




অন ​​পেজ এসইও কি?

অন ​​পেজ এসইও (অন সাইট এসইও হিসাবেও পরিচিত) কোনও ওয়েবসাইটের অনুসন্ধান ইঞ্জিনের র‌্যাংঙ্কিংয়ের উন্নতি করতে এবং জৈব ট্রাফিক অর্জনের জন্য ওয়েব পেজগুলি অনুকূলকরণের অনুশীলনকে বোঝায়।




প্রাসঙ্গিক উচ্চ-মানসম্পন্ন কনটেন্ট প্রকাশের পাশাপাশি অন-পেজ এসইওতে একটি পেজের কনটেন্টএর হেডলাইন, এইচটিএমএল ট্যাগগুলি (শিরোনাম, মেটা এবং শিরোনাম) এবং চিত্রগুলি বেশকিছু রুলস এর অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। এর অর্থ এটি নিশ্চিত করা যে আপনার ওয়েবসাইটটিতে উচ্চ স্তরের দক্ষতা, কর্তৃত্বতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে।
এই সবগুলো বিষয় ঠিকভাবে একত্রিত হলে আপনার পেজ ও ওয়েবসাইটটি ক্রমেই উন্নতি করবে।এই সার্বিক প্রক্রিয়াকেই বলা হয় অন-পেজ এসইও।


অন-পেজ এসইও গুরুত্বপূর্ণ কেন?

অন​​-পেজ এসইও সার্চ ইঞ্জিনগুলিকে আপনার ওয়েবসাইট এবং এটির বিষয়বস্তু বুঝতে সহায়তা করে এবং পাশাপাশি এটি কোনও অনুসন্ধানকারীর প্রশ্নের সাথে প্রাসঙ্গিক কিনা তা সনাক্ত করতে সহায়তা করে। এজন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ।
দিনকে দিন সার্চ ইঞ্জিনগুলি আরও পরিশীলিত হয়ে উঠছে। সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল পৃষ্ঠাগুলিতে (এসইআরপি) প্রাসঙ্গিকতা এবং শব্দার্থবিজ্ঞানের দিকে আরও বেশি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হচ্ছে। 


জটিল সব অ্যালগরিদম ব্যবহার করে গুগল এখন অনেক বেশি উন্নত। যেমন- 


১. ব্যবহারকারীরা যখন কোনও ক্যোয়ারী টাইপ করেন তখন তারা আসলে কী সন্ধান করছে তা গুগল আগেই বোঝা।


২. ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য পূরণ করে এমন অনুসন্ধান ফলাফল সরবরাহ করা (তথ্যগত, শপিং, নেভিগেশনাল)। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খায়িয়ে নিতে পারা খুবই জরুরি। গুগল খুব ভালো করেই জানে যে আপনার পেজে ও ওয়েবসাইটে কী কী কনটেন্ট রয়েছে। 


তার ভেতর কী ধরনের ছবি, ভিডিও, টেক্সট ব্যবহার করা হয়েছে এবং কী ধরনের হেডলাইন, এইচটিএমএল, মেটা ব্যবহার করা হয়েছে। তাই সবসময় সঠিক পদ্ধতিতে পেজ এসইও করে গুগলের চোখে ভালো থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এ্জন্য অন-পেজ এসইও সঠিকভাবে করার বিকল্প নেই। 


এই পদ্ধতি যদি কেউ অনুসরণ করে তাহলে দেখা যাবে কিছু দিনের মধ্যেই তার পেজ গুগল সার্চে র‌্যাংক করে গেছে। এই জন্যই মূলত আজকে অন-পেজ এসইও করার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোচনা- 


1. ই-এ-টি

গুগল তার ব্যবহারকারীদেরকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে তার আওতাধীন ওয়েবসাইট, পেইজগুলোকে সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখে।গুগল কখনোও চায় না যে তার মাধ্যমে সার্চ করে ক্লাইন্টরা অসত্য, মিথ্যা, ক্ষতিকর কোনো তথ্য পাক। এজন্য গুগল যেসব পেজকে অনুমোদন দেয় তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্যতা, সামগ্রিকভাবে মূল্যায়িত কনটেন্ট দিতে উৎসাহ দেয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা, মানসম্মত কনটেন্টকেই গুগল মূল্যায়ন করে থাকে। 


বিশ্বাসযোগ্যতা, সত্যতা, মান এসবের উপরে ভিত্তি করে কোনো ওয়েব-পেজের অনুমোদন প্রক্রিয়াকেই বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, E-A-T বলে।মনে করুন, একটি চুল গজানো তেলের এ্যড দেয়া হলো। কিন্তু ওই তেলটি নকল। মানুষ অনলাইন থেকে তেলটি কিনে ব্যবহার করার পর অবশ্যই বাজে পতিক্রিয়া কমেন্ট করবে। এই কমেন্টগুলি গুগল তার ইন্টেলিজেন্সিএর মাধ্যমে ধরে E-A-T এর মানকে খারাপ করে দেবে। তখন পেজটির র‌্যাংকিং হওয়ার সম্ভবনাও নষ্ট হবে। অথবা র‌্যাংকিংএ থাকলেও মান পড়ে যাবে। 


ওয়েবপেজের কনটেন্ট এর মান ঠিক রাখতে গুগল সবসময় উচ্চ মানের সামগ্রীতে প্রিমিয়াম সিস্টেম চালু রেখেছে যা টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করতে হয়। গুগল উচ্চ-মানের কনটেন্ট তৈরি করা সাইটগুলিকে ভালো র‌্যাংঙ্কিং দিয়ে পুরস্কৃত করে এবং নিম্ন মানের মানের কনটেন্ট তৈরি করা সাইটগুলিকে সার্চ এর নিচের সারিতে ফেলে রাখে।

গুগল কী ধরনের উচ্চমানের কনটেন্ট চায় এবং মানুষের সার্চ ফলাফলগুলিতে কী প্রদর্শিত হয় তার মধ্যে একটি স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। 


গুগলের অর্গানিক সার্চ বা জৈব অনুসন্ধানের ফলাফলগুলির ক্ষেত্রে ই-এ-টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (কোনো কনটেন্ট খোঁজার জন্য অর্নিদিষ্টভাবে গুগলে সার্চ করাকে অর্গাকিন সার্চ বলে)। E-A-T অবশ্যই আপনার এসইও কৌশলটি পর্যবেক্ষণ করে তাই উচিত হবে অন-পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে E-A-T বা কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নজর দেয়া। 


2. Title Tag বা শিরোনাম ট্যাগ

Title Tag বা শিরোনাম ট্যাগ হলো HTML ট্যাগ লাইকে বোঝায় যা প্রতিটি ওয়েবপৃষ্ঠার শিরোনামের মধ্যে থাকে। এটি পেজের প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক সূত্র বা প্রসঙ্গ প্রদান করে।এটি সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল পেজগুলোতে (সাধারণত ক্লিকযোগ্য লিঙ্ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়) ও ব্রাউজার উইন্ডোতে বিশিষ্টভাবে যুক্ত থাকে।

অর্গানিক সার্চ র‌্যাংকিং বা জৈবিক র‌্যাংঙ্কিংয়ের তুলনায় শিরোনাম ট্যাগএর প্রভাব কম, এজন্য এটি কখনও কখনও অভারলক করা হয়ে হয়। তারপরও ডুপলিকেট, দুর্বল লিখিত শিরোনাম ট্যাগগুলি এসইও ফলাফলগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই Title Tag বা শিরোনাম ট্যাগকে HTML করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। 


3. Meta Description বা মেটা বর্ণনা 

এসইওর প্রথম দিনগুলি থেকেই মেটা বিবরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অপ্টিমাইজেশন পয়েন্ট হয়ে আসছে। মেটা বিবরণ, মেটা ট্যাগ সাধারণত পৃষ্ঠাটি সম্পর্কে বর্ণনা করে।এটা ও পেজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়। প্রায়শই পেজের শিরোনামের নীচে SERPs এ প্রদর্শিত হয়। অর্থাৎ, আমরা গুগলে কোনো বিষয় নিয়ে সার্চ করলে শিরোনামের নিচে দিয়ে কিছু লেখা আসে এই লেখাগুলোকেই Meta Description বা মেটা বর্ণনা বলে। 


পেজের মেটা বর্ণনা সুন্দর হলে পেজ র‌্যাংক করার ক্ষেত্রে গুগল হেল্প করে। কেউ যদি মেটা সিলেক্ট না করে দেয় তবে গুগল নিজে থেকে মেটা সিলেক্ট করে নেয় । তবে সেটা থেকে ফলপ্রসূ কিছু হয় ন। সঠিকভাবে মেটা বিবরণ সিলেক্ট করা হলে সহায়ক হতে পারে:


· সার্চ ফলাফল এর মান ঠিক থাকা · ক্লিক-মাধ্যমে (সিটিআর) রেটিং বাড়া।
· ওয়েবপেজটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রাপ্তি। 


একটি মেটা ডিসক্রিপশনে সাধারণত ১৩০ থেকে ১৭০ শব্দ পর্যন্ত থাকতে পারে। আমাদের চেষ্টা করা উচিত এই শব্দগুলো ব্যবহার করে একটি ভালো মানের মেটা সিলেক্ট করা। যেন সেটা পেজের কনটেন্ট সম্পর্কে সঠিক, সুন্দর ও আকর্ষনীয় ধারনা দেয়। কারন সার্চইঞ্জিন ব্যবহারকারীরা অনেক সময় মেটা দেখে পেজে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেয়। 


4. Headlines বা শিরোনাম 

আমরা যদি আমাদের ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলোকে সার্চ লাইনের প্রথম সারিতে ভালো ভাবে আনতে চাই তাহলে অবশ্যই কনটেন্টএর শিরোনামগুলি আকর্ষনীয় ভাবে লেখতে হবে।

একটি ব্লগ পোস্টের জন্য একটি শিরোনাম তৈরি করাকে খুব প্রাথমিক মনে হতে পারে; কিন্তু মনে রাখতে হবে, একটি দুর্দান্ত শিরোনামই মানুষকে কনটেন্টকিতে ক্লিক করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং শিরোনামই কিন্তু কনটেন্ট এর ফাস্ট ইমপ্রেশন অর্থাৎ প্রাথমিক দর্শন। 

এজন্য অনেক বিশেষজ্ঞ শিরোনামকে একটি কনটেন্ট এর দরজা বলে থাকে। দরজাটি যতবেশি আকর্ষনীয় হবে মানুষ ততবেশি ঘরে ঢুকতে উৎসাহিত হবে। এজন্য কৌশলগতভাবে শিরোনামাটি সঠিক, আকর্ষনীয়ভাবে তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ । 


একটি আদর্শ শিরোনাম যা যা অনুসরণ করবে-
  • · শিরোনামটি ৭০ ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে।
  • · আকর্ষনীয় কি-ওয়ার্ড দ্বারা শিরোনামটি গঠিত হবে।
  • · সম্পূর্ণ কনটেন্টএর প্রতিচ্ছবি শিরোনামের মধ্যে প্রতিফলিত হবে।
  • · সঠিক ত্যথসম্পন্ন হতে হবে।


SERP সমৃদ্ধ একটি আদর্শ শিরোনাম মানুষকে বাকী কনটেন্টটিতে ক্লিক করতে এবং পড়া চালিয়ে যেতে অনেক সময় প্ররোচিত ও বাধ্য করে। 


5. Header Tags বা শিরোনাম ট্যাগস

হেডার বা শিরোনাম ট্যাগ হ'ল এইচটিএমএল উপাদান (এইচ 1-এইচ 6); যা একটি লিখিত কনটেন্ট (যেমন, অনুচ্ছেদের পাঠ্য) থেকে অন্যান্য কনটেন্ট (যেমন, অনুচ্ছেদে পাঠ্য) থেকে হেড-লাইন এবং সাব-হেড-লাইনকে সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। হেডার ট্যাগগুলি একটি সাইটের র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য ততটা ক্রিটিক্যালি অনেক গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এই ট্যাগগুলি সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন প্রদান করে - ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং এসইও এর জন্য।


নিন্মক্ত বিষয়গুলো পরোক্ষভাবে পেজ র‌্যাঙ্কিংকে প্রভাবিত করতে পারে:


  • · কনটেন্টগুলি পড়ার জন্য আরও সহজ এবং আরও উপভোগযোগ্য করা।
  • · সার্চ ইঞ্জিনগুলির জন্য কনটেন্ট সম্পর্কে কীওয়ার্ড সমৃদ্ধ প্রসঙ্গ প্রদান করা। 

6. SEO Writing বা এসইও লেখনী

এসইও রাইটিং এর অর্থ হলো, সার্চ ইঞ্জিন এবং ব্যবহারকারী উভয়কেই মাথায় রেখে লিখিত কনটেন্টটি লেখা। একটি শক্তিশালী এসইও কনটেন্ট লেখার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল রয়েছে - এবং এটি কীওয়ার্ড গবেষণার চেয়েও এসইওতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারন একই সাথে অনেকগুলো বিষয় মেইনটেন করে একটি আদর্শ এসইও কনটেন্ট লিখতে হয়। 


কেবলমাত্র একটি কনটেন্ট প্রকাশ করার জন্যই লেখা হয় না; মনে রাখতে হবে, আপনি মানুষের জন্য কনটেন্টটি লিখছেন।অতএব সেই কনটেন্টটি অবশ্যই উচ্চ-মানের, সুখপাঠ্য এবং যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক হতে হবে। 


7. কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন

একটি ওয়েবসাইট অথবা পেজকে র‌্যাংক করানোর জন্য সুন্দর কিছু কী ওয়ার্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা সকলেই জানি। তবে একটি ওয়েবসাইটের ভিন্ন ভিন্ন পেজে একই কী ওয়ার্ড টার্গেট হয়ে গেলে কী হতে পারে তা কী আমরা জানি?


একটি ওয়েবসাইটের একাধিক পেজ জুড়ে যদি একটি নির্দিষ্ট শব্দকে লক্ষ্যবস্তু করে বার বার পূর্ণরাবৃত্তি করা হয়; তাহলে "কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন" হতে পারে। যা আপনার এসইওর জন্য ভালো কিছুর বিপরীতে বিপর্যয়কর পরিণতি ঘটাতে পারে।


যখন আমরা একই কীওয়ার্ডের জন্য একাধিক পৃষ্ঠাগুলিকে র‌্যাংঙ্কিং করানোর চেষ্টা করি, তখন আসলে নিজের সাথে নিজেই প্রতিযোগিতা করা হয়। বিষয়টা হাইস্যকর না? আসলেই হাইস্যকর। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পেজ র‌্যাংক করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কোনো ওয়েবসাইটে কীওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন রয়েছে কিনা তা সনাক্ত করে তার সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ । 


8. Content Audit বা কনটেন্ট নিরীক্ষা

বেশিরভাগ কনটেন্ট নির্মাতারা নতুন কনটেন্ট তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করেন এবং তারা তাদের বিদ্যমান কনটেন্ট নিরীক্ষণ করতে ভুলে যান। এটি একটি ভুল।
ওয়েবসাইটে বিদ্যমান কনটেন্ট নিরীক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আপনাকে সহায়তা করে:
· বিদ্যমান কনটেন্টটি তার মূল লক্ষ্যগুলি অর্জন করছে কিনা এবং আরওআই অর্জন করছে কিনা তা মূল্যায়ন করতে হবে।
· আপনার কনটেন্টটিতে থাকা তথ্যগুলি এখনও নির্ভুল বা পুরানো হয়ে গেছে কিনা তা সনাক্ত করুন।
· কী ধরণের কনটেন্ট আপনার জন্য কাজ করছে তা নির্ধারণ করুন। 


সামগ্রী নিরীক্ষণগুলি আপনার এসইও কৌশলকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করতে পারে এবং সেগুলি নিয়মিত করা উচিত। 


9. Image Optimization বা ছবি অপ্টিমাইজেশন

কনটেন্টএর সাথে প্রাসঙ্গিক ও সুন্দর ছবি যুক্ত করা ওয়েব-পেজগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি ভাল উপায়। তবে সব ছবি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয় না – কোনো কোনো ছবি আপনার ওয়েবসাইটকে আরো ধীর করে দিতে পারে।


সঠিক ছবি যথাযথভাবে অপ্টিমাইজ করা হলে তা আপনাকে একটি মূল্যবান এসইও দিতে করতে সহায়তা করবে সন্দেহ নেই। ছবি অপ্টিমাইজেশনের অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন: 
 

· অতিরিক্ত র‌্যাঙ্কিংয়ের সুযোগ (গুগল চিত্র অনুসন্ধানে প্রদর্শিত হবে)।
· ভাল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা।
· দ্রুত পৃষ্ঠা লোড বার। 

ছবিগুলো অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হতে হবে। এরপর ছবির জন্য একটি আকর্ষনীয় টাইটেল ও ডিসক্রিপশন লিখতে হবে। এর সাথে ছবিতে এটিএল টেক্সট যুক্ত করতে হবে। 

10. User Engagement বা ব্যবহারকারীদের যুক্তকরণ

এসইও করার মূল লক্ষই কিন্তু মানুষকে ওয়েবসাইটে নিয়ে এসে পেজের মধ্যে আকৃষ্ট করে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা। ওয়েবসাইটের অন-পেজ এসইও উপাদানগুলির বর্ধন করা কেবল অর্ধেক যুদ্ধ। বাকি অর্ধেক যুদ্ধ নিশ্চিত হয় ব্যবহারকারীদেরকে পেজে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারলে। ব্যবহারকারীরা যদি কনটেন্টএর মধ্যে ক্লিক করে নির্দিষ্ট সময় না থেকে ব্যাক করে তাহলে এটাকে বাউন্স বলে।


এটা গুগলের চোখে খুব খারাপ রেপুটেশন হিসেবে ধরা পড়ে। তাই ব্যবহারকারীদের পেজের মধ্যে ধরে রাখা একটি দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ। তারা কনটেন্টটি পড়ে কমেন্ট শেয়ার করে ইন্টারঅ্যাক্ট করবে এটা আরো গুরুত্বপূর্ণ।ব্যবহারকারীরা পেজের কনটেন্টএ ক্লিক করে আসবে, 


সময় ধরে থাকবে এবং বিভিন্ন উপায়ে কমেন্ট শেয়ার করে এংগেজ হবে ঠিক তখনই পেজ র‌্যাংক করার সম্ভবনা তৈরি হবে।তাই এটি অবশ্যই করণীয়।ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বাড়ানোর জন্য, সাইটের গতি, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং কনটেন্টগুলির অপ্টিমাইজেশনের মতো দিকগুলিতে ফোকাস করা জরুরি। 


এই দশটি বিষয়ের মাধ্যমে অন-পেজ এসইও সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন-পেজ এসইও সঠিকভাবে করার জন্য অবশ্যই আরো জানতে হবে এবং সৃজনশীলতার সাতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অন-পেজ এসইও ছাড়া ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানো সম্ভব না।তাই উচিত হবে এ সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জেনে সঠিক পদ্ধতিতে কাজটি করতে হবে। 


Thank you













Comments

Popular posts from this blog

অন-পেইজ এসইও ফ্যাক্টর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ১০টি বিষয়

plans to sell your home in the near future